জাপানীদের বিচিত্র শেষকৃত্য ও মরন যাত্রা
জাপানে
বয়োজেষ্ঠ্য মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেখানে এখন প্রতি ৫ জনের মধ্যে
একজনের বয়স ৬৫ বা তার চেয়ে বেশী। ফলে সে দেশে মৃত্যু নিয়ে ব্যবসা এখন রমরমা। এখানে
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ অত্যন্ত বেশী। সম্মানজনক ভাবে একটি শেষকৃত্যানুষ্ঠানের
আয়োজন করতে হলে কম করে হলেও হাজার চল্লিশেক ডলার ব্যয় করতে হয়। এক জন জাপানীকে মৃত্যুর
পর বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোক থেকে বিদায় নিতে হয়।
প্রথমে লাশকে বাড়িতে এনে রাখা হয়। বৌদ্ধ ধর্মানুসারে নানা মন্ত্র পাঠ করে মৃতদেহকে সম্মান জানায় শোক পালনকারীরা। একটি বেদি কিনে তাতে মৃত ব্যক্তির ছবি টাঙ্গিয়ে রাখা হয়। যতদিন শোক পালন করা হবে, ততদিন এই ছবি ঝুলবে। বাড়ির আঙিনা সাজানোর জন্য কিনে আনতে হয় সাদা-কালো ব্যানার, লন্ঠন ও ফুল। শুধু পুরোহিত জোগাড় করলেই চলবেনা, কান্নাকাটি করার জন্য লোকও ভাড়া করে আনতে হয়। সেই সঙ্গে মৃতদেহ পোড়ানোর জন্য জায়গা রিজার্ভ করে রাখতে হয়। জমির স্বল্পতার জন্য জাপানে লাশ দাহ করা বাধ্যতামূলক।
মেহমানদের
কিন্তু খালি হাতে বিদায় করা যাবেনা,
উপহার হিসেবে
দিতে হবে তোয়ালে সেট বা প্রি-পেইড ফোন কার্ড। যাতে মুদ্রিত থাকবে কষ্ট স্বীকার করে
অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন বানী। এরপরও হাঁফ ছেড়ে বাঁচার উপায়
নেই। অনুষ্ঠানের শেষে মৃতের পরিবারের হাতে এসে পৌছায় মোটাসোটা অংকের বিল।
এই টাকা যায়
মন্দির কর্তৃপক্ষ বা শেষকৃত্য অনুষ্ঠান আয়োজনকারীর পকেটে। এভাবে মৃত আত্নীয়কে নিয়ে
আড়ম্বরপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা করতে গিয়ে অনেক জাপানী তাদের ব্যাংক এ্যাকাউন্ট থেকে
প্রচুর টাকা খুঁইয়েছেন। মূলত বর্তমানে জাপানে শেষকৃত্য অনুষ্ঠান একটি প্রতিযোগীতার
বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই