বিশ্বের সবচেয়ে খাটো উপজাতি পিগমি
বিশ্ব জুড়ে
বাস করে বিভিন্ন আকারের মানুষ। কেউ লম্বা, কেউ খাটো, কেউ সাদা আবার কেউ কালো। তবে তাদের মধ্যে কিছু কিছু জাতি
বা উপজাতি আছে একটু ভিন্ন। অর্থাৎ তারা অতি খাটো বা লম্বা। যেমন, তেমনই একটি উপজাতি হচ্ছে পিগমি। আফ্রিকার নিরক্ষীয় অঞ্চল, যেখানে বৃষ্টিবনের নিবিড় সমারোহ, সেখানেই পিগমিদের বসবাস। আফ্রিকার খর্বকায় উপজাতি হিসেবে
পিগমিদের নাম অনেকেই হয়তো শুনেছেন। পিগমি শব্দটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ
বামনাকৃতি।
ক্ষুদ্রাকৃতির নৃগোষ্ঠী হিসেবে পিগমিদের সবাই চেনে, কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, পিগমি শিশুরা ১২/১৩ বছর পর্যন্ত মোটামুটি স্বাভাবিক আকৃতির হয়ে থাকে। তাদের বৃদ্ধিও স্বাভাবিক থাকে কিন্তু তারপর তাদের দেহ বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। পিগমিদের উচ্চতা সাধারণত ৪ ফুট থেকে ৫ ফুটের মধ্যে হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শরীরে আইজিএফ নামক একটি গ্রোথ ফ্যাক্টর কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। এই নৃগোষ্ঠী পেশায় শিকারি। এরা মূলত যাযাবর সম্প্রদায়। বর্তমানে এদের সমাজে চাষাবাদের প্রচলন হওয়ায় এরা কিছুটা স্থায়ী হয়েছে।
পিগমি সমাজে
শিকারি পুরুষের চাহিদা বেশি এবং মেয়েরাও বিয়ের পাত্র হিসেবে ভাল শিকারি পুরুষকে
পছন্দ করে। এরা শরীর খোদায় করে বিভিন্ন উল্কি আঁকে। পিগমিদের জীবন সমাজবদ্ধ। এদের
পারিবারিক বন্ধন খুব মজবুত এবং গোত্রের নিয়ম মেনে চলে। অতিসাধারন এদের বাসগৃহ।
গাছের ডাল পুঁতে কাদা দিয়ে পাতা জুড়ে এরা বাসা তৈরি করে। পিগমিরা সংগীত খুবই
ভালবাসে। শিকারে উৎসবে সংগীত তাদের অপরিহার্য অঙ্গ। পিগমি শিশুরা কথা শেখার সাথে
সাথে গানও শেখে। পিগমিদের আরাধ্য দেবতা হচ্ছে- বনদেবতা মোকুন্ডি। বনদেবতা একজন নয়
অনেকেই আছেন। সবচেয়ে শক্তিশালী মোকুন্ডির নাম হচ্ছে এজেন্সি।
পিগমি
জনগোষ্ঠী পৃথিবী থেকে ক্রমশ বিলুপ্ত হতে চলেছে। এদের সম্পর্কে জানা গেছে খুব কমই।
প্রায় ১০ হাজার বছর ধরে আফ্রিকার বিষুবীয় অঞ্চলে পিগমিদের একাধিপত্য ছিল। ক্রমশ
বানাঞ্চল উজাড় ও অন্যান্য গোষ্ঠেীর আগ্রাসনে বর্তমানে এদের সংখ্যা এক লক্ষের
কাছাকাছি। উন্নত সভ্যতার চোখে পিগমিরা আদিম ও অসভ্য হলেও এরা বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।
তাই এদেরকে আমাদেরই বাচিঁয়ে রাখতে হবে।
কোন মন্তব্য নেই