স্বামী আমদানি করে বিয়ের নিয়ম যে দেশে
সাধারনত বিয়ের
ক্ষেত্রে বর কনে একই অঞ্চলের হয়ে থাকে। অথবা হয়ে থাকে স্বদেশী বা প্রবাসী। কিন্তু
এমন কখনও শোনা গেছে যে, একটি অঞ্চলের প্রায়
সকল মেয়ে বিদেশ থেকে স্বামী আমদানি করে থাকে? হ্যা, অবিশ্বাস্য হলেও এটি সত্য। আর এই অদ্ভূত প্রথা বিশিষ্ট
এলাকাটি হচ্ছে থাইল্যান্ডের উত্তর পূর্ব ইসান-উদন থানী অঞ্চল। ইসান হচ্ছে
থাইল্যান্ডের গোটা উত্তর পূর্ব অঞ্চল এবং উদন থানী হচ্ছে ১৯টি প্রদেশের মধ্যে একটি
অন্যতম প্রদেশ। এই ইসান প্রদেশটি হচ্ছে থাইল্যান্ডের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চল।
অবাক করা ব্যাপার এই যে, থাইল্যান্ডের এই অঞ্চলটির প্রায় শত ভাগ স্বামী বিদেশ থেকে আমদানী করা। ইসানে প্রায় ১১ হাজার বিদেশী স্বামী থাই বউ নিয়ে বসবাস করছে। এই অঞ্চলের মেয়েদের স্বামী আমদানী করার ক্ষেত্রে বয়স বড় ধরনের কোন ব্যাপার নই। স্বামীদের বয়স ৫০, ৬০, ৭০ হলেও যায় আসে না। উদন থানীতে একটা সড়ক আছে যার নাম বাংলা অর্থে জামাই সড়ক। এই সড়কের বার আর রেস্তোরা গুলোতে পশ্চিমা দেশের পুরুষদের ভিড় লেগেই থাকে। জোড়ায় জোড়ায় দেখা যাবে বিদেশী বর আর থাই কনে।
উদান থানীতে
কেন এমনটা হচ্ছে এর সঠিক জবাব আমেরিকা ও থাইল্যান্ড খুঁজে বের করতে পারিনি। তবে
পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, ইসান হচ্ছে
থাইল্যান্ডের সবচেয়ে সস্তা শ্রমের বাজার। ব্যাংককের বিনোদন শিল্পে কাজ করে এমন
মেয়েদের বেশীরভাগই এখানে বসবাস করে। এখানে জীবন যাপনের ব্যয় অত্যন্ত কম। আর থাই
মেয়েদের জালে আটকা পড়া মার্কিন অথবা ইউরোপীয় স্বামীদেরi অধিকাংশই অবসরপ্রাপ্ত। তারা পেনশনের টাকা নিয়ে স্বদেশে
বিয়ে ও জীবনযাত্রায় হাতাশ হয়ে এখানে আসেন। আর এই অঞ্চলের অধিকাংশ অবিবাহিত থাই
মেয়েরা বিদেশী স্বামী ধরার ফাঁদ পেতে বসে থাকে। থাই মেয়েদের আবেদনে সাড়া দিয়ে
হতাশাগ্রস্ত বিদেশীরা ওদের ফাঁদে ধরা দেয়।
ইসানে বিদেশী
স্বামী আহরন, তাদের সাথে প্রেম ও
বিয়ে সংক্রান্ত বইও পাওয়া যায়। আছে কনসালটেন্সি ফার্ম বা আমরা যাকে বলি ঘটক।
ইসানের গ্রামগুলো প্রায় সবই বিদেশী বাড়ী ঘরে ছেয়ে গেছে। আমদানি করা স্বামীদের
ঘরগুলো খুব সহজেই চেনা যায়। লাল টাইলস করা ছাদ, রং বেরংয়ের
দেয়াল এবং ভাস্কর্য বসানো বাগান গুলো দেখলেই বুঝা যায় এটা বিদেশী স্বামীর বাড়ী।
ইসানের মেয়েরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চায় বিদেশী বর শুধু তাকে নয়, তার গোটা পরিবারকে দেখভাল করুক। আর এটা শুরু হয় বিয়ের
প্রথম দিকে কয়েক হাজার ডলার যৌতুক হিসেবে নেয়ার মাধ্যমে।
বিদেশী
স্বামীরা সময় কাটান মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল দেখে এবং বউদের সময় দিয়ে। কম বয়সী
থাই মেয়ে হলেও অধিকাংশ বিদেশী স্বামীরা ওখানে স্থায়ী ভাবে থেকে যান। তারা সেখানে
সুখেই থাকেন তবে আজকাল ডিভোর্সও কম হচ্ছে না।
কোন মন্তব্য নেই