দেশে দেশে বৈচিত্র্যময় শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান
আমাদের এই
পৃথিবী বড়ই বৈচিত্রময়। এখানে বাস করে কয়েকশ কোটি মানুষ এবং তাদের একত্রিত করে
রেখেছে কিছু দেশ বা জাতি গোষ্ঠী। এই পৃথিবীতে আমরা এসেছি কয়েক বছরের জন্য তারপর
আবার আমাদের এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে চলে যাওয়ার রীতি
কেমন হবে? হ্যা, আমাদের এই
পৃথিবীতে দেশ, জাতি ও সমাজ ভেদে
মানুষের শেষকৃত্যের রয়েছে নানান নিয়ম। কারো নিয়ম স্বাভাবিক আবার কারো নিয়ম
বৈচিত্রময়।
ল্যাটিন
আমেরিকার প্যারাগুয়েতে 'আদ্দেগালু' উপজাতীয়দের কেউ মারা গেলে তার আত্নীয় স্বজনরা লাশটি কেটে
রান্না করে খায়। হাড়গুলো জমা করে কিছুদিন ফেলে রাখে, তারপর একদিন
সেগুলো পুড়িয়ে তার ছাইগুলো সযত্নে রেখে দেয়। এরকম করলে প্রেতাত্না কোনো ক্ষতি করতে
পারে না বলে তাদের বিশ্বাস।
পাপুয়া
নিউগিনির দু'টি গোত্র 'ভিটাইয়া' ও 'বেলালু'-এর লোকজনের মধ্যে
প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকে। এক গোত্রে অন্য গোত্রের কাউকে খুন করতে পারলে
হত্যাকারী গোত্রের লোকজন আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠে। পুরুষরা পাখির পালক মাথায় দিয়ে এবং
মেয়েরা মাথায় বনফুল গুঁজে নাচ-গান শুরু করে। অন্যদিকে মৃতের গোত্রের লোকজন নানা
ধরনের উপহার সামগ্রী লাশের মাথার চারপাশে জমিয়ে রাখে।
এক ব্যক্তি
একটি তীরের মাথায় এক গোছা ঘাস বেঁধে সেটা শূন্যে নিক্ষেপ করে। পরে লাশটিকে পুড়িয়ে
ফেলা হয় নিউ মেক্সিকোর 'পিলে বেলু' গোত্রের কারো মৃত্যু হলে প্রথমে মদপানের ব্যবস্থা করা
হয়। তারপর একজন জ্যোতিষী মৃতের মাথা থেকে এক গোছা চুল কেটে নিয়ে কবর খুঁড়তে যায়।
মৃত ব্যক্তির ঘর থেকে কবর পর্যন্ত খাবার ভর্তি থালা পেতে দেয়া হয়। সবাই একসঙ্গে
খাওয়া শেষে জ্যোতিষী মৃত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র গ্রামের বাইরে নিয়ে ফেলে আসে।
তারপর মৃতের ঘরে জ্যোতিষী 'ক্রস' চিহ্ন এঁকে দেয়। এতে মৃতের আত্না ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে
ঘরে ঢুকতে পারে না বলে তাদের বিশ্বাস। এরপর মৃতদেহটিকে সমাহিত করা হয়।
দক্ষিণ
আফ্রিকায় 'লুথ' নামে একটি
গোত্র আছে। এ গোত্রের কেউ মারা গেলে প্রথমে তার নাড়ি ভুঁড়ি বের করে সবাই স্যুপ
রান্না করে খায়। এরপর মৃতদেহটি পাহাড়ের ওপর কিংবা সুবিধাজনক জায়গায় রেখে তা না
শুকানো পর্যন্ত পালা করে পাহারা দেয়। লাশটি শুকিয়ে অনেকটা শুঁটকির মতো হয়ে গেলে
সেটি কেটে কেটে রান্না করে খাওয়া হয়।
কোন মন্তব্য নেই