মানুষের গায়ের রং ভিন্ন ভিন্ন হয় কেন?
আমাদের সবার
গায়ের রং এক রকম নয়। কারো ফর্সা, কারো কালো, কারো তামাটে বা কারো শ্যামলা। বিভিন্ন কারণে মানুষের
গায়ের রং ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। আমাদের ত্বকে দুটি স্তর রয়েছে। বাইরের স্তরকে
বহিঃত্বক বা এপিডারমিস আর ভিতরটিকে বলে আন্তঃত্বক বা ডরমিস। বহিঃত্বককে আবার
কয়েকটি স্তরে ভাগ করা যায়। সবচেয়ে ভিতরের স্তরটিকে বলে স্ট্যাটাম বেসাল। এই স্তরে
কয়েকটি বিশেষ ধরনের কোষ আছে। তাদের বলে মেলানোসাইট। সাধারন স্ট্যাটাম বেসালে প্রতি
বর্গ মিলিমিটারে ১০০০-৩০০০ মেলানোসাইট থাকে।
এই মেলানোসাইট গুলোর মধ্যে থাকে রঞ্জক কণা বা মেলানিন। এই মেলানিন দ্বারা মানুষের ত্বকের রং নির্ধারিত হয়ে থাকে। যাদের ত্বকে মেলানিন এর পরিমান বেশী থাকে তাদের গায়ের রং কালো হয়ে থাকে। এবং যাদের ত্বকে মেলনিন এর পরিমান কম থাকে তাদের গায়ের রং ফর্সা হয়ে থাকে। গায়ে মেলানিন কম থাকবে না বেশী থাকবে সেটা নির্ভর করে বংশগত বৈশিষ্ঠ এবং পরিবেশের উপর। বংশ পরস্পরায় মানুষের গায়ের রং কালো বা ফর্সা হয়ে থাকে আবার পরিবেশ বা আবহওয়ার কারণেও গায়ের রং কালো বা ফর্সা হয়ে থাকে। এছাড়া আরোও কিছু কারনে শরীরের রং ফর্সা বা কালো হয়ে থাকে। যেমন, ভৌগোলিক কারণ, পানির কারণ এবং র্সূয্য তাপের কারণে। ভৌগলিক কারণে একই এলাকা ভিত্তিক মানুষের ত্বকের রং ফর্সা বা কালো হয়ে থাকে।
পানির কারণেও
গায়ের রং এর পরিবর্তন ঘটে। মিষ্টি পানি এলাকার চেয়ে লবনাক্ত এলাকার মানুষের গায়ের
রং তুলনামূলক কালো হয়ে থাকে। আবার, সূর্য্যের আলো যেখানে
বেশী চড়া সেখানে গায়ের রং কালো এবং যেখানে কম সেখানে গায়ের রং ফর্সা হয়ে থাকে।
যেমন ইউরোপের মানুষের গায়ের রং সাদা,
আফ্রিকার
মানুষের গায়ের রং কালো এবং আমাদের দেশে গায়ের রং প্রধানত বাদামী হয়ে থাকে।
নিগ্রোদের বহিঃত্বকের উপরের স্তরে মেলানিন পাওয়া যায় সেজন্য তাদের ত্বকের রং
তুলনামূলক বেশী কালো হয়ে থাকে।
কোন মন্তব্য নেই