প্রাণীর মতো খাঁচায় যেখানে মানুষের বসবাস
সৃষ্টির সেরা
জীব হিসাবে সকল মানুষের মৌলিক চাহিদা সমূহ সমান হওয়া উচিত। কিন্তু পৃথিবীতে মানুষ
মানুষে বড়ই ভেদাভেদ। কেউ বাস করে অট্টালিকায় আবার কেউ বাস করে গাছ তলায়। গাছ তলায়
বা গাছে মানুষ বসবাস করে এ নিশ্চয়ই আপনারা শুনেছেন। কিন্তু মানুষ খাঁচায় বাস করে
এমন কখনও কি শুনেছেন? আমরা জানি খাঁচায় বাস
করে বাঘ, ভাল্লুক বা পাখি। তাই বলে খাঁচায় মানুষের
বসবাস! কিভাবে সম্ভব? সবই সম্ভব আমাদের এই
মনূষ্য জগতে।
বর্তমান বিশ্বের একটি উন্নত রাষ্ট্র হচ্ছে হংকং। আর মানুষ খাঁচায় বাস করার এই বিচিত্র ঘটনাটি ঘটছে এই হংকংয়ে। এখানে মানুষ পোষা প্রাণীদের মতোই খাঁচায় বসবাস করে। একটির উপর আরেকটি এভাবে মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত সাজানো খাঁচা গুলোয় বসবাস করে প্রায় চার লাখ মানুষ। যার মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে। এই খাঁচা বাড়ীতে মূলত হংকংয়ের হতদরিদ্র ও নিঃস্ব যাদের বাড়ীঘর সহায় সম্বল কিছুই নাই সেই সকল মানুষজন বসবাস করে। বাসস্থানহীন মানুষদের আবাসন ব্যাবস্থা হিসাবে সমগ্র হংকংয়ে গড়ে উঠেছে এই খাঁচা বাড়ী। এই খাঁচা ফ্লাট তৈরিতে প্রথমে একটি বাসা ভাড়া নেয়া হয়।
মূলত
মধ্যস্বত্বভোগীরা প্রথমে বাসাটি ভাড়া নিয়ে থাকে। এরপর বাসাটির সমগ্র কক্ষগুলিতে
কাঠ ও তারের জালি দিয়ে তৈরি করা হয় প্রায় ৬২৫ বর্গফুটের এক একটি খাঁচা। একজন
পূর্ণবয়স্ক মানুষ তাতে পা লম্বা করে শুতে পারলেও এর ভিতরে দাড়াতে পারে না। খাঁচায়
ঢুকেই শুয়ে পড়তে হয়। একটি ঘরে খাঁচার উপর খাঁচা দিয়ে তৈরি করা হয় খাঁচার ফ্লাট।
একটি কক্ষে এরকম অনেকগুলি খাঁচার তাক এবং সারি থাকে। সাধারনত একটি কক্ষে ১৮-২০টি
খাঁচার তাক স্থাপন করা হয় ফলে একটি কক্ষে বসবাস করতে হয় ১৮-২০ জন মানুষকে এবং
তাদের জন্য থাকে মাত্র একটি বাথরুম।
ঘরের সবচেয়ে
উপরের তাকে যিনি বসবাস করেন তার ভোগ করতে হয় চরম কষ্ট। ঘরমের দিনে ছাদ উত্তপ্ত হয়ে
তার শরীরের পানিও শুকিয়ে যেতে থাকে। আবার শীতের দিনে কনকনে শীতে হাড় কাঁপার জোগাড়
হয়। নারী, পুরুষ ও শিশুদের একই খাঁচায় বসবাস করতে হয়।
এগুলোয় থাকে না কোন নিরাপত্তা বা কোন প্রকার গোপনীয়তা।
প্রাকৃতিক
দূযোর্গ বা অর্থনৈতিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনই বাধ্য হয়ে এমন স্থানে দিনের পর দিন
বসবাস করতে। অনেকে আছেন যাদের পুরো জীবনটাই কাটিয়ে দিচ্ছেন এই খাঁচার ভিতরে।
রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এই অমানবিক বিষয়টার প্রতি কোন খেয়াল করা হচ্ছে না। তবে
বর্তমানে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিষয়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছে।
কোন মন্তব্য নেই