Header Ads

৭ বছর পর ফিরে আসা ভেসে যাওয়া শিশু

কথায় বলেরাখে আল্লাহ মারে কে, আর মারে আল্লাহ রাখে কেকথাটির আরও একবার প্রমাণ পাওয়া গেলো মেরি ইউলান্ডার ঘটনা দ্বারা। মৃত্যু যদি কপালে লেখা না থাকে তবে শত বিপদের মাঝেও বেচে থাকা যায়, আবার বিপদ যদি ভাগ্যে লেখা থাকে তবে শত প্রচেষ্টার পরও তাকে এড়ানো যায় না। তবে একথা ঠিক যে, সর্বদা বিপদ থেকে বেচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। মেরি ইউল্যান্ড ১৪ বছর বয়সী এক বালিকা, যে সুনামিতে হারিয়ে গিয়েছিল আজ থেকে সাত বছর আগে। কিন্তু ভাগ্যের কি খেলা, সাত বছর পর আবার সে ফিরে এসেছে তার নিজের বাড়িতে। ঘটনাটি অবিশ্বাস্য হলেও মিথ্যা কল্প কাহিনী নয়।


আজ থেকে বছর আগে ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত সাগরে ঘটেছিল প্রলয়ঙ্করী সুনামি। যে সুনামির তাণ্ডবে ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, ভারত সহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রায় দুই লক্ষ ৩০ হাজার লোক প্রাণ হারায়। সুনামির তাণ্ডবে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা, আচেহ সহ বেশ কয়েকটি এলাকা। সুনামির এই দিনে হারিয়ে গিয়েছিল মেরি ইউলান্ডা।

হারিয়ে যাওয়ার সময় তার বয়স ছিল সাত বছর। সে হারিয়ে গিয়েছিল ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের তার বাড়ি থেকে। তার ডাক নাম ওয়াতি। পরিবারের সবাই ধরে নিয়েছিল ওয়াতি আর বেঁচে নেই। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে দীর্ঘ সাত বছর পর ওয়াতি ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে তার বাড়িতে। সে ফিরে এসেছে তার নিখোঁজ হবার দিবসের ঠিক তিন দিন আগে ২৩ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখ। সাত বছর পর এখন তার বয়স ১৪ বছর। খবরটি জানায়, ইন্দোনেশিয়ার সংবাদ সংস্থা জাকার্তা গ্লোব।

গত সাতটি বছর ওয়াতি আপনজনদের খোঁজে নানা স্থানে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে। কিন্তু কোথাও সে তার আপন জনদের খোজ পাচ্ছিল না। সর্বশেষ সে তার জন্ম শহরের একটি ক্যাফেতে এসে বাবা-মার খোঁজ করে। কিন্তু দাদা ইবরাহীম ছাড়া আর কারো নাম সে মনে করতে পারছিল না। ভাগ্যক্রমে ওই ক্যাফেতে তার পরিবারের পরিচিত একজন ওয়াতির দাদার নাম চিনতে পারেন। তার মাধ্যমেই ওয়াতি শেষ পর্যন্ত বাবা-মার কাছে ফিরে আসতে সক্ষম হয়। ওয়াতি জানায়, দুর্যোগে ভেসে যাওয়ার পর এক বিধবা মহিলা তাকে খুঁজে পায়। কিন্তু ওই বিধবা তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া তো দূরের কথা জোরপূর্বক তাকে ভিক্ষা বৃত্তিতে নিয়োজিত করেছিল। সেখানে অনেকটা বন্দি জীবন যাপন করতে হতো ওয়াতিকে। দীর্ঘ সাত বছর পর অবশেষে সেই বিধবার হাত থেকে ছাড়া পায় সে।

পরিবারের সাথে মিলিত হওয়ার পর ওয়াতি তার প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বলে, ‘আমি মাকে দেখেই চিনতে পারি।ওয়াতি যখন তার মাকে দেখতে পায় তখনই সে মা..... মা বলে চিৎকার দিয়ে উঠে তার দিকে দৌঁড় দেয়। দুজনেই দুজনকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। ওয়াতির পরিবারের সাথে মিলিত হওয়ার দৃশ্য এভাবেই সংবাদ সংস্থার কাছে বর্ণনা করেন তার বাবা তারমিয়াস। সন্তান ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন ওয়াতির মা ইয়াসনিদার। তাই প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি যে, তার মেয়ে ফিরে এসেছে। এমনকি প্রথমে মেয়েকে দেখে চিনতেও পারেননি।

সুনামির ঢেউ যখন আচেহ উপকূলে মেরিদের গ্রাম উজংবোরাহতে আঘাত হানে তখন ওয়াতি তার বড় বোন পানিতে ভেসে যায়। দুর্যোগ কেটে গেলে ইয়াসনিদার তার স্ত্রী তাদের হারানো সন্তানদের ফিরে পেতে নানা স্থানে খোঁজ করেন। কিন্তু তাদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। পরিশেষে তারা ধরে নিয়েছিল তাদের দুই মেয়ে আর বেঁচে নেই। ওয়াতিকে শেষ পর্যন্ত ফিরে পেলেও তারা তাদের পরিবারের বড় মেয়ের এখনও কোনও সন্ধান পায় নি।

২০০৪ সালের সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আচেহ প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে কমপক্ষে দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। এছাড়া সুনামিতে ভেসে যাওয়া প্রায় ১০ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। অসংখ্য পরিবার জানে না, তাদের আপনজনের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছে। ওয়াতির মতো সুনামিতে হারিয়ে যাওয়াদের ফিরে আসার ঘটনা খুবই বিরল।

ওয়াতির ফিরে আসার পর অপর বাবা মায়েরাও হয়তো এখন তাদের হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের ফিরে আসার পথ চেয়ে বসে থাকবে। কিন্তু সেই সন্তানরা হয়তো কোনও দিনও ওয়াতির মতো ফিরে আসবে না।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.