শত বছরের হারিয়ে যাওয়া চিঠির খোঁজ
মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ইমেইল ইত্যাদির কারণে বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত পত্রের চাহিদা কমে এসেছে। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন ব্যক্তিগত সংবাদ আদান-প্রদানের একমাত্র মাধ্যম ছিল চিঠি। বর্তমানে কয়েক সেকেন্ডে সংবাদ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণ করা যায় এবং তা প্রাপকের প্রাপ্তি স্বীকারও জানা যায়। কিন্তু আগে একটি পত্র প্রেরণ করলে প্রাপক সেই পত্রের প্রাপ্তি স্বীকার করা না পর্যন্ত জানা যেত না সেটি ঠিক জায়গায় পৌঁছেছে কিনা। ডাক বিভাগের আধুনিকতার অভাবে অনেক পত্র ঠিকমতো প্রাপকের ঠিকানায় না পৌঁছে হারিয়ে যেত। তেমনই হারিয়ে যাওয়া দুটি পত্র খুঁজে পাওয়া গেছে বর্তমান সময়ে এসে। একটি পাওয়া গেছে ৫৩ বছর এবং অপরটি ১০০ বছর পর।
৫৩ বছরের প্রেমপত্র:
ভালবাসা যদি সত্যি হয় তবে তা মানে না কোনও বাধা। প্রেমিক প্রেমিকারা সাধারণত এমন কথা বলে থাকেন। অনেকে এই কথা বিশ্বাস করেন আবার অনেকে করেন না। বিশেষ করে অভিভাবকরা সাধারণত এই সকল কথা বিশ্বাস করতে চান না। তবে যারা বিশ্বাস করেন না তাদের বিশ্বাস করানো জন্য প্রেমিক প্রেমিকারা পেয়েছেন নতুন এক রশদ। আর সেটি হচ্ছে, সকল বাধা পেরিয়ে ৫৩ বছর পর প্রেমের চিঠি তার গন্তব্যে পৌছার এক ঘটনা। এখন তারা বলতেই পারে, আসলে প্রেমের কোন কিছুই কেউ আটকে রাখতে পারে না।
১৯৫৮
সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ পড়ুয়া এক যুবককে প্রেম
পত্র দিয়েছিলো তারই প্রেমিকা। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই যে, প্রেমিকার
দেয়া পত্রটি ঠিকঠাক পৌঁছেনি প্রেমিকের ঠিকানায়। এই চিঠি না
পৌঁছানোর ফলে তাদের প্রেমের সাময়িক কোনও সমস্যা হয়েছিল কিনা জানা না গেলেও দীর্ঘ
৫৩ বছর পর গত ০৭
জুলাই ২০১১ তারিখ চিঠিটি পৌঁছেছে ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি অব পেনসেলভেনিয়ার পত্র
কক্ষে। চিঠিটি পোস্ট করা হয়েছিল ১৯৫৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। প্রেমিকা
ভনি চিঠিতে তার প্রেমিকের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন "ভালবাসা চিরকালের"। ভনির প্রেমিকের
নাম ছিল ক্লার্ক সি মুর।
প্রেমের
এই চিঠিটার কেন এমন পরিণতি হয়েছে সেটা জানতে গেলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিঠিটি প্রথম অবস্থায় রিলিজ করতে ডাক বিভাগ ভুল করেছিল, পরে যখন এটি আবিষ্কার হয় তখন তার
মধ্যে প্রেমিক
ক্লার্ক সি মুর ধর্মান্তরিত
হয়ে মুসলমান হন এবং তার
নাম পরিবর্তন করে মোহাম্মদ সিদ্দিক রাখেন। ফলে চিঠিটা তার প্রাপককে সনাক্ত করতে পারছিলো না।
মজার
ব্যাপার এই যে, তাদের
চিঠিটি হারিয়ে গেলেও তাদের ভালবাসা হারিয়ে যায়নি। ভালবাসার ফল সরূপ সিদ্দিক-ভনি বিয়ে করেছেন অনেক আগেই এবং তাদের রয়েছে চারটি ছেলে মেয়ে। তবে বর্তমানে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে। বর্তমানে ৭৪ বছর বয়সী
সিদ্দিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তার চিঠি পৌছার খবরটি জানতে পেরেছেন তার এক বন্ধুর দ্বারা।
সিদ্দিক এই খবর শুনে
বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করে চিঠিটি সংগ্রহ করেন। তিনি চিঠিটি পড়ে খুবই উচ্ছ্বসিত হন।
১০০ বছরের মায়ের পত্র:
প্রেমের
চিঠি যখন পাওয়া গেলো ৫৩ বছর পর,
তখন আর এক সন্তান
খুঁজে পেয়েছেন তার মায়ের চিঠি ১০০ বছর পর। "আমি একটি পুতুল, হুডওয়ালা পানি-নিরোধক পোশাক, এক জোড়া গ্লাভস,
একটি টফি আপেল, একটি স্বর্ণ মুদ্রা, একটি রুপার মুদ্রা আর একটি কাঠি
লাগানো টফি চাই", ১৯১১ সালে বড়দিনের আগে সান্তা ক্লজের কাছে এমন আবদার জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন আয়ারল্যান্ডের হান্না হাওয়ার্ড। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর।
১০০
বছর পর এবার ২০১১
সালের বড়দিনের আগে মায়ের ছেলেবেলায় লেখা চিঠিটির সন্ধান পেয়েছেন ছেলে ভিক্টর বার্টলেম। উচ্ছ্বসিত ভিক্টর বললেন, "এটি অবিশ্বাস্য, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি কখনোই চিঠিটির অস্তিত্বের কথা জানতাম না। খুবই অদ্ভুত ব্যাপার। চিঠিটি আর দশটা সাধারণ
শিশুর সান্তাকে লেখা চিঠির মতো"।
বিবিসি
জানিয়েছে, চিঠিটি অনেক বড় কিছু পাওয়ার গল্প। ১৯৯২ সালে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে বাড়ির হিটিং সিস্টেম (শীতকালে বাড়ির উষ্ণতা বাড়াতে ব্যবহৃত পদ্ধতি) ঠিক করতে গিয়ে চিমনিতে চিঠিটি পান বর্তমান বাসিন্দা জন ব্রিন। অতীতের
নিদর্শন হিসেবে তিনি চিঠিটি নিজের কাছে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে
এ বছরের বড়দিনে চিঠিটি লেখার ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জন ব্রিন সংবাদপত্রে
এটি প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। এটি প্রকাশ করে আইরিশ টাইমস পত্রিকা। সংবাদপত্রে ছাপানো খবরটি ব্রিনের বাড়ি থেকে ১০০ মাইল দূরে বানগোরে বসে পড়ছিলেন ভিক্টরের স্ত্রী।
এমন
মজার খবরটি তিনি স্বামীকেও পড়ে শোনালেন। নাম, ঠিকানা শুনে তিনি চমকে উঠলেন। বুঝলেন এটা তাঁর মায়ের লেখা চিঠি। এরপর যোগাযোগ করলেন ব্রিনের সঙ্গে। ভিক্টর জানান, তাঁর মা হান্না ১৯০০
সালের বড়দিনে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩১ সালে তিনি আলফ্রেড বার্টলেমকে বিয়ে করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি মারা যান। তিনি ও হাওয়ার্ড বার্টলেম
এই দুই সন্তানকে রেখে গেছেন হান্না।
কোন মন্তব্য নেই