কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভিন্ন প্রতিভা !
বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যাকে নতুন করে পরিচয় করে দেয়ার কোনও দরকার নেই। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জগতে প্রবেশ করলে যাকে চাঁদের মতো উজ্জ্বল দেখায় তিনিই রবিঠাকুর। তিনি এমনই এক ব্যক্তি যার বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সকল বিভাগে পদচারণা ঘটেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বের একমাত্র ভাগ্যবান কবি যার লিখিত গান বিশ্বের দুটি দেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এই কবির এতসব পরিচয় তার মাঝেও তার রয়েছে আরও একটি ভিন্ন পরিচয়। আমরা অনেকেই হয়তো তার সেই পরিচয় সম্পর্কে অবগত আছি আবার অনেকেই নেই। কি তার সেই পরিচয়। আসুন জানার চেষ্টা করি।
বাংলা
ভাষা ও সাহিত্যের রাজা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এতসব প্রতিভার মাঝে তার ভিন্ন আরেকটি প্রতিভা ছিল, আর সেটি হচ্ছে
তার হোমিওপ্যাথি চর্চা। কথাশিল্পের ফাঁকে ফাঁকে তিনি হরেক রকম রোগ ও তার প্রতিকারের
জন্য রুগীদের মাঝে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ বাতলেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হোমিও চিকিৎসাকে খুবই পছন্দ করতেন। শুধু পছন্দ নয় হোমিওপ্যাথির উপর
ছিল তার অগাধ বিশ্বাস ও ভালবাসা। এককথায়
বলতে গেলে বলতে হয় তিনি ছিলেন
হোমিওপ্যাথিতে আসক্ত। তার প্রিয়তমা স্ত্রী মৃণালিনী দেবী যখন মারাত্মক অসুস্থ ছিলেন তখন তিনি তাকে হোমিও চিকিৎসা প্রদান করেছেন। শুধুই তাই নয় তার স্ত্রীর
মৃত্যুর দিন পর্যন্তও তিনি ভরসা রেখেছিলেন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার উপর। তিনি বিশ্বাস করতেন হোমিও চিকিৎসায় তার স্ত্রীকে সুস্থ করে তার কাছে ফেরত দেবে।
কবিগুরু
যখন শিলাইদহ জমিদার বাড়িতে থাকতেন তখন সেখানে লেখা-লেখির পাশাপাশি সময় পেলেই সেখানের প্রজাদের খবরা-খবর নিতেন। রোগে ভোগা প্রজাদের শরীর স্বাস্থ্যের খবর নিতেন এবং সুস্থতার খাতিরে তাদের হোমিও চিকিৎসা প্রদান করতেন। তিনি বলতেন কারও যখন অসুখ হতো এবং তার জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হতো
ততক্ষণ আমি শান্ত হতে পারতাম না। তিনি ভাবতেন তার একার হোমিও চিকিৎসা দ্বারা বিশাল সাম্রাজ্যের সবাইকে সুস্থ রাখা যাবে না। তাই তিনি তার সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিনি পয়সায় হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন। কালিগ্রাম ও তার আশে
পাশে এই চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো
স্থাপিত হয়েছিল। কালিগ্রামের আশে পাশে তিনি যখন হোমিও চিকিৎসা প্রদান করতে বের হতেন তখন তার হাতে থাকতো ঔষধের বাক্স। তিনি চিকিৎসা প্রদানের বিনিময়ে কোনও অর্থ নিতেন না। মাঝে মাঝে তিনি তার নিকট বন্ধুদের মজা করে বলতেন -আমি ফি নিই না
বলে আমার প্রশংসা প্রচার হয় না। অবশ্য
ইতিহাস কিন্তু তাকে প্রশংসা করতে কমতি করেনি।
সে
সময়ের বিদগ্ধ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক পিসি মজুমদার রবি ঠাকুরের হোমিও চিকিৎসার তারিফ করতেন। পিসি মজুমদার ও রবি ঠাকুরের
মধ্যে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিষয়ের বইপত্র বিনিময় হতো নিয়মিত। চিকিৎসা প্রদানের স্বার্থে কবির বাড়িও ছিল হোমিওপ্যাথি বইয়ের বিশাল সংগ্রহশালা। যার অনেকাংশই তিনি নিয়েছিলেন পিসি মজুমদারের নিকট থেকে।
তিনি
যখন কলিকাতার শান্তিনিকেতনে থাকতেন তখন রোজ সকালে বিনি পয়সায় গরীব ও অভাবী মানুষদের
হোমিও চিকিৎসা প্রদান করতেন। চিকিৎসা প্রধানের স্বার্থে তিনি তার কামরার পাশে একটি আশ্রমের মতো বানিয়ে নিয়েছিলেন। রোজ সকালে প্রিয় কবির চিকিৎসা গ্রহণ করে ধন্য হতেন কার আশে পাশের অনেক ভক্তবৃন্দ।
মোটকথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। আর সেই ভক্তির খাতিরেই তিনি হোমিও চিকিৎসাকে এত আপন করে নিয়েছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বহু প্রতিভায় গুনান্বিত একজন ব্যক্তি। বাংলা ভাষা সাহিত্যে এমন কোনও জায়গা নেই যেখানে তার পদচারণা পড়েনি। তিনি হোমিওপ্যথিকে ভালবাসতেন সেই হিসেবে তিনি চিকিৎসাও করতেন। সুন্দর লেখাটির জন্য লেখককে ধন্যবাদ।
উত্তরমুছুনমূল্যবান মন্তব্যের জন্য জাহিদ হাসান আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
উত্তরমুছুনরবীন্দ্রনাথের মতো আমরা আমাদের প্রিয় হুমায়ুন আহমেদকেও হারিয়ে ফেললাম। স্যারকে স্যালুট জানাই।
উত্তরমুছুনরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অব্শ্য খুব গুনী কবি।কিন্তু আমি তার ভক্ত নই কারন তখনকার ইংরেজ সরকারের অত্যাচার শোষনের বিরুদ্ধে তার কবিতায় কোন বিদ্রোহীতা ফুটে ওঠেনি।তার সাথে ইংরেজদের সাথে ছিল বন্ধুপুর্ন সম্পর্ক।ইংরেজরা তাকে নাইটহুড বা স্যার উপাধি দেয়।পরে যদিও উপাধি গ্রহন করেনি।
উত্তরমুছুনমন্তব্য যদি কারো খারাপ লাগে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।
জনাব তালেব আপনার মন্তব্য সঠিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর খুবই মুসলমান বিরোধী ও বংলাদেশ বিরোধী ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ বা মুসলমানদের উন্নতি কোনও মতে সহ্য করতে পারতেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টার সময় যারা চরম বিরোধীতা করেছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন তাদের অন্যতম। এছাড়াও আরও অনেক ইতিহাস আছে তার বঙ্গ বিরোধীতার বিষয়ে। ধন্যবাদ।
উত্তরমুছুন