বিশালাকার সাহারা মরুভূমি আসলে কত বড় !
আমাদের পৃথিবী একটি বিস্ময়কর জায়গা। এখানে বিস্ময়কর অনেক স্থান রয়েছে যেগুলো নিয়ে মানুষরা খুবই কৌতুহলি থাকে। এমনই একটি বিস্ময়কর ও রহস্যময় স্থান হচ্ছে সাহারা মরুভূমি। সাহারা" নামটি আরবি শব্দ "সাহ্রা" (صَحْرَاء) থেকে এসেছে, যার অর্থ "মরুভূমি"। এই শব্দটি বিশেষভাবে বৃহত্তর, শুষ্ক, বালুময় এলাকা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। সাহারা মরুভূমির নামকরণের পেছনে প্রধানত এর বিশাল আকার এবং শুষ্ক আবহাওয়া ভূমিকা রেখেছে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তর উষ্ণ মরুভূমি হওয়ায়, এর নাম "সাহারা" প্রাচীনকাল থেকেই মরু অঞ্চলের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সাহারা মরুভূমির অবস্থান:
সাহারা মরুভূমির আয়তন প্রায় ৯.২ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার বা ৩.৬ মিলিয়ন বর্গমাইল,
যা এটিকে পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই বিশাল আয়তন আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। সাহারা মরুভূমির অক্ষাংশ প্রায় ১৫°
উত্তর থেকে ৩০°
উত্তর পর্যন্ত এবং দ্রাঘিমাংশ প্রায় ১২°
পশ্চিম থেকে ৩৫°
পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। সাহারা আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূল থেকে শুরু হয়ে পূর্বদিকে লোহিত সাগর পর্যন্ত প্রসারিত। এর উত্তরে ভূমধ্যসাগর এবং দক্ষিণে সাহেল অঞ্চল অবস্থিত। ১১টি দেশের ভেতর বিস্তৃত,
যেমন: মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মালি, নাইজার, মিশর, সুদান, চাদ, ও মৌরিতানিয়া। এই বিশাল এলাকাজুড়ে সাহারা মরুভূমির ভিন্ন ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে,
যেমন পাথুরে মালভূমি,
বালুর টিলা,
শুকনো নদীর প্রবাহপথ,
এবং মরু হ্রদ।
সাহারা মরুভূমির জলবায়ু:
সাহারা মরুভূমির জলবায়ু অত্যন্ত শুষ্ক ও চরম প্রকৃতির, যা প্রধানত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় উষ্ণ মরুভূমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য বহন করে। সাহারায় দিনের বেলা তাপমাত্রা খুবই বেশি, যা প্রায় ৫০°C বা ১২২°F পর্যন্ত উঠতে পারে। গ্রীষ্মকালে বিশেষ করে তাপমাত্রা আরও বেশি হয়ে থাকে। দিনের বিপরীতে, রাতের বেলা তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। ঠাণ্ডা মরুভূমির এলাকায় তাপমাত্রা ০°C বা ৩২°F বা তারও নিচে নেমে যেতে পারে। এই চরম পরিবর্তন মরুভূমির বৈশিষ্ট্য।
মরুকরণ এবং প্রাগৈতিহাসিক জলবায়ু:
সাহারা মরুভূমির বর্তমান শুষ্ক অবস্থা এবং প্রাগৈতিহাসিক জলবায়ুর মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে,
এবং এই পরিবর্তনগুলোর প্রেক্ষাপটে সাহারার মরুকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। প্রাচীন সাহারায় জলবায়ু বর্তমানের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। আজ থেকে প্রায় ১০,০০০ বছর আগে,
সাহারা একটি সবুজ,
উর্বর ভূমি ছিল। এটি "গ্রিন সাহারা" বা "আর্দ্র সাহারা" নামে পরিচিত। সেই সময়ে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হতো,
এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ছিল বড় বড় হ্রদ,
নদী, এবং ঘাসের প্রান্তর। এই সময়ে মানুষ কৃষি চর্চা করতো এবং পশুপালন করতো। অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন,
যেমন গুহাচিত্র এবং পাথর খোদাই,
সেই সময়ে মানুষের জীবনযাপনের প্রমাণ বহন করে। প্রায় ৫,০০০-৬,০০০ বছর আগে থেকে সাহারায় জলবায়ুর পরিবর্তন শুরু হয়। পৃথিবীর অক্ষের পরিবর্তন এবং মহাজাগতিক কারণগুলো সাহারায় ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাতের হ্রাস ঘটায়। বৃষ্টির পরিমাণ কমতে থাকায় সাহারার সবুজ ভূমি ধীরে ধীরে শুকিয়ে যেতে শুরু করে,
এবং এটি মরুভূমিতে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াকেই মরুকরণ বলা হয়,
যা সাহারার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। মরুকরণের প্রক্রিয়াটি ধীরগতি হলেও,
এটি অপ্রতিরোধ্য ছিল। এর ফলে নদী ও হ্রদগুলো শুকিয়ে যায়,
গাছপালা মারা যায়,
এবং বালুর টিলা ও পাথুরে মালভূমি সৃষ্টি হয়। আজকের সাহারা তার পূর্ববর্তী সবুজ অবস্থা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি পরিবেশে রূপান্তরিত হয়েছে।
বর্তমান সময়েও সাহারা মরুভূমি প্রসারিত হচ্ছে। জলবায়ুর উষ্ণায়ন,
বৃষ্টির অভাব এবং মানুষের কর্মকাণ্ড,
যেমন অতিরিক্ত গবাদি পশু চারণ,
ভূমির অতিরিক্ত ব্যবহার,
ও বন উজাড়ের কারণে সাহেলার মতো পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মরুকরণের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। মরুকরণ প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা "গ্রেট গ্রিন ওয়াল" (Great Green Wall) প্রকল্পের মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে,
যার মাধ্যমে সাহারার দক্ষিণে বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে,
যাতে সাহারার বিস্তার রোধ করা যায়। সাহারার জলবায়ুর পরিবর্তন একটি প্রাকৃতিক চক্রের অংশ। বিজ্ঞানীরা মনে করেন,
সাহারার সবুজ হওয়ার চক্রটি ভবিষ্যতে আবার ফিরে আসতে পারে,
তবে সেটি কয়েক হাজার বছর পর ঘটতে পারে।
সাহারা মরুভূমির কঠোর এবং চরম পরিবেশের মধ্যেও কিছু বিশেষ অভিযোজিত উদ্ভিদ ও প্রাণীজীবন টিকে আছে। শুষ্কতা,
তীব্র তাপ,
এবং পানির অভাবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তারা বিস্ময়কর অভিযোজন ক্ষমতা অর্জন করেছে। এখানে সাহারার উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
সাহারা মরুভূমির উদ্ভিদজগত:
সাহারা মরুভূমির উদ্ভিদজগত অত্যন্ত সীমিত,
তবে যারা আছে তারা শুষ্ক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। ক্যাকটাস প্রজাতি এবং অন্যান্য কাঁটাযুক্ত গাছপালা সাহারার প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে বিশেষভাবে অভিযোজিত। এই গাছগুলো তাদের পাতা কাঁটায় পরিণত করে পানির বাষ্পীভবন কমিয়ে দেয় এবং তাদের কাণ্ডে পানি সংরক্ষণ করতে পারে। সাহারার বিভিন্ন অঞ্চলে একেশিয়া গাছ দেখা যায়। এগুলোর শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করতে পারে,
যা মাটির গভীর থেকে পানি শোষণ করতে সক্ষম। সাহারার কিছু মরূদ্যান অঞ্চলে এই গাছ পাওয়া যায়,
যেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি পানি রয়েছে। এই উদ্ভিদগুলো তাদের পাতা বা কাণ্ডে প্রচুর পানি সংরক্ষণ করতে পারে,
যা তাদের দীর্ঘ শুষ্ক সময়ে বেঁচে থাকতে সহায়তা করে।
সাহারা মরুভূমির প্রাণীজগত:
সাহারা মরুভূমির প্রাণীকুলও অত্যন্ত অভিযোজিত, যারা কঠিন পরিবেশে বেঁচে থাকতে বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে। সাহারার প্রতীকী প্রাণী হলো উট। উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয় কারণ তারা দীর্ঘ সময় পানি ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে এবং তাদের দেহে চর্বি সঞ্চয় করে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে সক্ষম। ছোট এবং কিউট এই শিয়ালটি তার বড় কান ব্যবহার করে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি রাতে শিকার করে এবং দিনের বেলা বালুর নিচে ঠাণ্ডা থাকে। এই পিঁপড়াটি পৃথিবীর সবচেয়ে গরম তাপমাত্রায় বেঁচে থাকতে সক্ষম। তারা দিনের সবচেয়ে তপ্ত সময়ে খাবারের সন্ধানে বের হয়, যখন অন্য প্রাণীগুলো তাপ সহ্য করতে না পেরে আশ্রয় নেয়। এই বড় শিংওয়ালা স্তন্যপায়ী প্রাণী সাহারায় অল্প পরিমাণ পানি দিয়ে বেঁচে থাকতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে খাবার ছাড়া চলতে পারে। বালুর নিচে লুকিয়ে থাকা এই সরীসৃপটি শিকার ধরার জন্য বিখ্যাত। এটি অত্যন্ত দ্রুত বালুতে সাঁতার কাটার মতো চলাফেরা করে। মরুভূমির পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে হায়েনা পাওয়া যায়। তারা মূলত মৃত প্রাণী খায় এবং খুব শক্তিশালী অভিযোজিত শিকারী। সাহারায় বিভিন্ন প্রজাতির বিচ্ছু রয়েছে, যারা অত্যন্ত বিষাক্ত এবং শুষ্ক পরিবেশে বেঁচে থাকতে সক্ষম।
সাহারার উদ্ভিদ ও প্রাণীগুলো কঠোর পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য বিশেষ অভিযোজন কৌশল গ্রহণ করেছে। উদ্ভিদগুলো গভীর শিকড়,
মসৃণ পাতা,
এবং পানি সংরক্ষণ করার ক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রাণীগুলো রাতকেন্দ্রিক জীবনযাপন করে,
বালুর নিচে আশ্রয় নেয়,
এবং কম পানি ব্যবহার করে বেঁচে থাকার কৌশল রপ্ত করেছে।
সাহারায় কিছু কিছু অঞ্চলে মরূদ্যান রয়েছে,
যেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি পানি পাওয়া যায়। এই মরূদ্যানে খেজুর গাছ,
কিছু চাষযোগ্য উদ্ভিদ,
এবং বেশ কিছু প্রাণী ও পাখির দেখা মেলে। মরূদ্যানগুলো সাহারার জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
সাহারা মরুভূমির মানুষ:
সাহারা মরুভূমির অঞ্চলটি বিশাল এবং এর মানব সমাজ,
সংস্কৃতি,
ও ভাষাগত বৈচিত্র্যও সমানভাবে সমৃদ্ধ। এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে কঠোর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলেছে এবং তাদের সংস্কৃতি মরুভূমির জীবনের প্রতিফলন। সাহারায় যাযাবর জীবনধারা,
স্থানীয় উপজাতি,
এবং বিভিন্ন ভাষার ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়।
সাহারা মরুভূমির বেশিরভাগ অঞ্চলে বাস করা মানুষ যাযাবর বা আধা-যাযাবর জীবনযাপন করে,
যারা মরুভূমির কঠোর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বসবাস করে। এখানকার প্রধান জনগোষ্ঠী হলো:
বারবার:
সাহারার ঐতিহাসিক বাসিন্দা। বারবাররা সাহারার উত্তর এবং পশ্চিমাঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে,
বিশেষত মরক্কো,
আলজেরিয়া,
এবং লিবিয়া জুড়ে। বারবাররা দীর্ঘকাল ধরে মরুভূমির মাধ্যমে বাণিজ্য পরিচালনা করেছে।
তুয়ারেগ:
তুয়ারেগরা সাহারার বিখ্যাত যাযাবর উপজাতি,
যারা মালির উত্তর,
নাইজার, এবং আলজেরিয়ার কিছু অঞ্চলে বাস করে। তারা মরুভূমির বাণিজ্য পথের প্রাচীন রক্ষক হিসেবে পরিচিত এবং তাদের নীল পোশাক ও মুখাবরণ (ফেস ভেইল) একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
আরব:
সাহারার পূর্বাঞ্চলে (মিশর,
সুদান, লিবিয়া) এবং অন্যান্য অঞ্চলে আরব জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে। ৭ম শতাব্দীতে আরবদের আগমন এবং ইসলাম ধর্মের প্রসারের মাধ্যমে সাহারার সংস্কৃতি ও ভাষার উপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
সাহেল অঞ্চলের জনগোষ্ঠী: সাহারার দক্ষিণে সাহেল অঞ্চলে বাস করা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী যেমন ফুলানি,
মাওরিতানীয়,
এবং হাউসা রয়েছে। তারা আধা-যাযাবর এবং কৃষি ও পশুপালন প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে।
সাহারা মরুভূমির সংস্কৃতি:
সাহারার মানুষের সংস্কৃতি মূলত তাদের প্রাচীন ঐতিহ্য,
বাণিজ্যিক ইতিহাস এবং ইসলাম ধর্মের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাদের জীবনে প্রধান বিষয়গুলো হলো:
যাযাবর জীবনধারা: সাহারার কঠিন পরিবেশের কারণে এখানকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যাযাবর জীবনযাপন করে আসছে। তারা মরুভূমির বিভিন্ন অংশে খাদ্য এবং পানি খুঁজে বেড়ায় এবং পশুপালন করে জীবিকা নির্বাহ করে। উট এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,
কারণ উট ছাড়া মরুভূমিতে চলাচল এবং বাণিজ্য প্রায় অসম্ভব।
বাণিজ্য ও করাভান: সাহারা প্রাচীনকাল থেকেই বাণিজ্যিক পথের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। সোনার,
লবণের, এবং দাসের বাণিজ্য মরুভূমির মধ্য দিয়ে পরিচালিত হতো,
এবং তুয়ারেগ ও বারবাররা এই করাভানগুলোর প্রধান রক্ষক ছিল। এই বাণিজ্য সাহারার সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
ইসলাম: সাহারা মরুভূমির অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রধান। ইসলামের আগমনের পর থেকে সাহারার মানুষের জীবনধারা এবং সংস্কৃতি অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। মসজিদ,
ইসলামি শিক্ষা,
এবং হজ্জের সাথে সম্পর্কিত প্রথা সাহারার মানুষের সংস্কৃতির একটি বড় অংশ।
নৃত্য ও সঙ্গীত: সাহারার বিভিন্ন উপজাতির মধ্যে সঙ্গীত এবং নৃত্যের ঐতিহ্য রয়েছে। বিশেষ করে তুয়ারেগদের সঙ্গীত এবং বারবারদের ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত খুবই পরিচিত। মরুভূমির জীবনযাত্রা এবং বাণিজ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠানে এই সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশিত হয়।
সাহারা মরুভূমির ভাষা:
সাহারা মরুভূমির মানুষ বহু ভাষায় কথা বলে, এবং এই ভাষাগুলোর মধ্যে প্রধানত বারবার ও আরবি ভাষার প্রভাব লক্ষ করা যায়।
বারবার ভাষা: বারবার ভাষা সাহারার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত,
বিশেষত মরক্কো,
আলজেরিয়া,
এবং লিবিয়ার বারবার জনগোষ্ঠীর মধ্যে। বারবার ভাষার বিভিন্ন উপভাষা রয়েছে,
যেমন তামাজাইত এবং শেলহা।
তামাশেক:
তুয়ারেগ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত তামাশেক ভাষা। এটি বারবার ভাষারই একটি উপভাষা,
যা সাহারার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ব্যবহৃত হয়।
আরবি: সাহারার পূর্বাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলে আধুনিক মানক আরবি ভাষা প্রচলিত,
বিশেষত মিশর,
সুদান, এবং লিবিয়ায়। স্থানীয় আরব উপভাষাগুলোও বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত।
ফরাসি: সাহারার অনেক দেশ যেমন মরক্কো,
আলজেরিয়া,
মালি, এবং নাইজারে ফরাসি ভাষা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভাষা,
কারণ এই দেশগুলো এক সময় ফরাসি উপনিবেশ ছিল।
সাহারা অঞ্চলের কিছু বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আচার ও উৎসব:
গরম চা পান করা: সাহারার মানুষ, বিশেষত তুয়ারেগদের মধ্যে চা পানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রথা রয়েছে। মরুভূমির কঠিন পরিবেশে চা একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উপাদান।
গেরওল নৃত্য:
সাহারের ফুলানি উপজাতির মধ্যে গেরওল উৎসব খুবই জনপ্রিয়,
যেখানে পুরুষরা বিশেষ রঙিন পোশাক পরে নৃত্য করে এবং নারীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।
সাহারা মরুভূমির মানুষ,
তাদের জীবনযাপন,
সংস্কৃতি,
এবং ভাষা দীর্ঘকাল ধরে কঠিন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিয়েছে। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চলে যাযাবর জীবনধারা,
ইসলাম ধর্মের প্রচলন,
এবং প্রাচীন বাণিজ্যিক পথের ঐতিহ্য সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধিকে গড়ে তুলেছে।
কোন মন্তব্য নেই