সেভেন সিস্টার্স কি? কেন বলা হয় এবং অবস্থান
সেভেন সিস্টার্স একটি পরিচিত শব্দ। বাংলাদেশ সহ ভারতে এই শব্দটি খুবই ব্যবহৃত হয়। "সেভেন সিস্টার্স" (Seven Sisters) শব্দটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এই রাজ্যগুলো হলো:
১. অরুণাচল (Arunachal)
২. আসাম (Assam)
৩. মণিপুর (Manipur)
৪. মেঘালয় (Meghalaya)
৫. মিজোরাম (Mizoram)
৬. নাগাল্যান্ড (Nagaland)
৭. ত্রিপুরা (Tripura)
সেভেন সিস্টার্স কেন বলা হয়:
এই সাতটি রাজ্য তাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পাহাড়ি অঞ্চলগুলির জন্য পরিচিত। তারা ভৌগোলিকভাবে এবং ঐতিহাসিকভাবে একই অঞ্চলের অন্তর্গত এবং প্রায়শই একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই অঞ্চলটি পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য, বিশেষ করে এর পাহাড়ি দৃশ্য, উপজাতীয় সংস্কৃতি, এবং প্রকৃতির প্রতি প্রেমীদের জন্য। সেভেন সিস্টার্স নামটি প্রথম প্রচলিত হয় ১৯৭২ সালে, যখন মণিপুর, মেঘালয় এবং ত্রিপুরা আলাদা রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পর থেকেই "সেভেন সিস্টার্স" শব্দটি উত্তর-পূর্ব ভারতের এই সাতটি রাজ্যের সমষ্টিগত পরিচয় তুলে ধরার জন্য ব্যবহৃত হতে থাকে। ত্রিপুরার সাংবাদিক জ্যোতি প্রসাদ সাইকিয়া সর্বপ্রথম এই রাজ্যগুলোকে 'সেভেন সিস্টার্স' নাম দেন।
এই সাতটি রাজ্য যোগাযোগ এবং বাণিজ্যের জন্য প্রধানত আসামের উপর নির্ভরশীল,
কারণ আসাম ভৌগোলিকভাবে বাকি রাজ্যগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপন করে। এ কারণেই তারা একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলে,
যা "সেভেন সিস্টার্স" নামের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।
১. অরুণাচল প্রদেশ:
অরুণাচল প্রদেশ ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত একটি রাজ্য। এর নামের অর্থ হলো "উদীয়মান সূর্যের দেশ" কারণ এটি ভারতের সেই অংশে অবস্থিত,
যেখানে সূর্য প্রথম উদিত হয়। এই রাজ্যটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,
পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত।
অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী হলো ইটানগর। প্রদেশ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বাসভূমি,
এবং এখানকার মানুষদের নিজস্ব ভাষা,
পোশাক, এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। রাজ্যের প্রধান উপজাতির মধ্যে রয়েছে নিসি,
আপাতানি, মিশমি, এবং আদিস। তারা বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব পালন করে,
যেমন লোসার এবং সোলুং। অরুণাচল প্রদেশ তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন আকর্ষণের জন্য পরিচিত। এই প্রদেশের চীনের সাথে সীমান্ত রয়েছে এবং চীন এই অঞ্চলটির উপর দাবি করে। যদিও ভারত এই অঞ্চলকে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। এটি ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অরুণাচল প্রদেশে বহু ভাষা প্রচলিত,
তবে রাজ্যের প্রধান সরকারি ভাষা হলো ইংরেজি। এছাড়াও,
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন স্থানীয় ভাষা প্রচলিত রয়েছে।
২. আসাম প্রদেশ:
আসাম ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য,
যা তার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য,
বন্যপ্রাণী,
এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য এবং বাণিজ্যিক ও ভৌগোলিকভাবে অন্যান্য উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর জন্য একটি প্রধান সংযোগস্থল। আসামের ইতিহাস,
সংস্কৃতি,
এবং প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের দিকে গভীরভাবে নজর দিলে দেখা যায়,
এটি ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধশালী এবং বৈচিত্র্যময় রাজ্য।
আসামের রাজধানী হলো দিসপুর,
যা গৌহাটির উপকণ্ঠে অবস্থিত। গৌহাটি আসামের বৃহত্তম শহর এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র। আসামের প্রধান ভাষা হলো অসমীয়া,
যা আসাম রাজ্যের সরকারী ভাষা। এছাড়াও,
বাংলা, বোড়ো, এবং হিন্দি ভাষারও ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। আসামের সংস্কৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। এটি বিভিন্ন জাতি,
উপজাতি, এবং ধর্মের মানুষের দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে।
আসামের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর,
তবে তেলের খনি এবং চা শিল্প রাজ্যের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করে। আসাম ভারতের অন্যতম প্রধান তেল উত্পাদক রাজ্য,
এবং ডিগবই তেল শোধনাগার ভারতবর্ষের সবচেয়ে পুরনো শোধনাগারগুলোর একটি। আসামের ইতিহাস সমৃদ্ধ এবং এখানে প্রাচীন কামরূপ রাজ্যের উপস্থিতি ছিল। এখানে আহোম রাজবংশের শাসন দীর্ঘকাল ধরে চলেছিল,
যারা মুঘল আক্রমণকারীদের প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল। ১৮২৬ সালে ব্রিটিশরা আসাম দখল করে এবং আসাম ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে।
৩. মণিপুর প্রদেশ:
মণিপুর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি পাহাড়ি রাজ্য,
যা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,
সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য পরিচিত। মণিপুর নামের অর্থ "রত্নের ভূমি" (Land of Jewels), যা রাজ্যের অপরূপ সৌন্দর্যকে প্রতিফলিত করে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এবং অধিকাংশ এলাকাই পাহাড় ও বনাঞ্চল দ্বারা বেষ্টিত। মণিপুরের রাজধানী হলো ইম্ফল। ইম্ফল শহরটি মণিপুরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
মণিপুরের প্রধান ভাষা হলো মৈতেই বা মণিপুরি,
যা রাজ্যের সরকারি ভাষা এবং মূলত মৈতেই জনগোষ্ঠীর ভাষা। এছাড়া অন্যান্য উপজাতি জনগোষ্ঠীর ভাষাও প্রচলিত রয়েছে,
যেমন থাডো,
তাংখুল, কুকি প্রভৃতি। মণিপুরের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং ঐতিহ্য তার জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়।
মণিপুরের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিনির্ভর। ধান চাষ এখানে প্রধান ফসল,
তবে এখানকার হস্তশিল্প,
বোনা পণ্য এবং সিল্কও অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করে। রাজ্যটি তার হস্তনির্মিত শাল,
পোশাক, এবং অন্যান্য হস্তশিল্পের জন্য পরিচিত।
মণিপুরের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। মণিপুরের রাজতান্ত্রিক শাসন ১৯৪৯ সালে শেষ হয়,
যখন মণিপুর ভারতের সাথে যুক্ত হয়। মণিপুরের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হলো আঙ্গলো-মণিপুর যুদ্ধ
(১৮৯১), যেখানে মণিপুর ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সাথে লড়েছিল।
৪. মেঘালয় প্রদেশ:
মেঘালয় ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের একটি রাজ্য,
যার নামের অর্থ হলো "মেঘের বাসভূমি" (Abode of Clouds)। এর নামই রাজ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং চিরসবুজ পাহাড় ও মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশের প্রতিফলন। মেঘালয় তার অনন্য ভূগোল,
মনোরম পাহাড়ি অঞ্চল,
এবং বৈচিত্র্যময় উপজাতীয় সংস্কৃতির জন্য সুপরিচিত। এটি তিনটি প্রধান পাহাড়ি অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত: গারো পাহাড়, খাসি পাহাড়,
এবং জয়ন্তিয়া পাহাড়। এই পাহাড়ি অঞ্চলগুলো মেঘালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।
মেঘালয়ের রাজধানী হলো শিলং,
যা তার শীতল আবহাওয়া এবং পাহাড়ি সৌন্দর্যের জন্য "পূর্বের স্কটল্যান্ড" নামে পরিচিত। মেঘালয়ের প্রধান ভাষাগুলো হলো খাসি,
গারো, এবং জয়ন্তিয়া। ইংরেজি এখানে সরকারি ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও,
হিন্দি এবং বাংলা কিছু অংশে প্রচলিত। মেঘালয় মূলত তিনটি প্রধান উপজাতি জনগোষ্ঠীর বসবাসভূমি: খাসি,
গারো, এবং জয়ন্তিয়া। তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মেঘালয়ের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। মেঘালয়ের মানুষ মাতৃতান্ত্রিক সমাজের অনুসারী,
যেখানে সম্পত্তি এবং পারিবারিক উত্তরাধিকার মায়ের দিক থেকে চলে।
মেঘালয়ের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিনির্ভর। এখানে ধান,
ভুট্টা, আলু, এবং বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করা হয়। এছাড়া,
বেত, বাঁশ, এবং হস্তশিল্প মেঘালয়ের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কয়লা এবং চুনাপাথরের খনিও মেঘালয়ের অর্থনৈতিক সম্পদগুলোর একটি। মেঘালয় তার অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের জন্য পরিচিত। বিশেষ করে চেরাপুঞ্জি এবং মৌসিনরাম বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। মেঘালয়ের জলবায়ু শীতল ও মনোরম,
যা সারা বছর ধরে পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
মেঘালয় আগে আসামের অংশ ছিল,
কিন্তু ১৯৭২ সালে এটি আলাদা রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। খাসি,
গারো, এবং জয়ন্তিয়া জনগোষ্ঠীর দীর্ঘ ঐতিহ্য এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস মেঘালয়ের সাংস্কৃতিক জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে।
৫. মিজোরাম প্রদেশ:
মিজোরাম ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি পাহাড়ি রাজ্য,
যা তার সবুজ পাহাড়,
বনভূমি, এবং অনন্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। "মিজোরাম" শব্দটির অর্থ হলো "মিজো জনগণের ভূমি", যেখানে "মিজো" বলতে এখানকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে বোঝানো হয়,
আর "রাম" অর্থে ভূমি। মিজোরামের রাজধানী হলো আইজল,
যা পাহাড়ের উপর অবস্থিত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
মিজোরামের প্রধান ভাষা হলো মিজো
(লুশাই), যা রাজ্যের সরকারি ভাষা। এছাড়া,
ইংরেজি এখানে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত হয়। মিজোরাম মূলত মিজো জনগোষ্ঠী দ্বারা অধ্যুষিত,
যারা তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য পরিচিত। মিজোরামের সমাজ মাতৃতান্ত্রিক,
যেখানে পরিবারের উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি সাধারণত পুরুষের মাধ্যমে চলে।
মিজোরামের অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক। এখানে প্রধানত ধান,
ভুট্টা, তামাক এবং শাকসবজি চাষ করা হয়। মিজোরাম তার বাঁশ শিল্পের জন্যও বিখ্যাত। বাঁশ এখানকার প্রধান কাঠামোগত উপাদান এবং বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়। এছাড়া,
ঝুম চাষ
(জুমিং) এখানকার আদিবাসীদের মধ্যে একটি প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতি,
যা স্থানীয়ভাবে গৃহীত হয়েছে।
মিজোরামের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো ব্রিটিশ শাসনের সময়। ১৮৯৫ সালে এটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে এবং ১৯৭২ সালে মিজোরাম আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হয়। ১৯৮৬ সালে ভারত সরকারের সাথে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরে মিজোরাম ১৯৮৭ সালে ভারতের একটি পূর্ণ রাজ্যে পরিণত হয়।
৬. নাগাল্যান্ড প্রদেশ:
নাগাল্যান্ড ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি সুন্দর এবং সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময় রাজ্য,
যা তার উপজাতীয় ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। নাগাল্যান্ডকে প্রায়শই "উপজাতিদের ভূমি" বলা হয়,
কারণ এখানে বেশ কয়েকটি উপজাতি বসবাস করে,
যাদের প্রত্যেকের নিজস্ব অনন্য ভাষা,
সংস্কৃতি,
এবং ঐতিহ্য রয়েছে। এই রাজ্যটি তার আদি জনজাতিদের মধ্যে থাকা পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং বর্ণিল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য প্রসিদ্ধ।
নাগাল্যান্ডের রাজধানী হলো কোহিমা,
যা তার ঐতিহাসিক এবং প্রাকৃতিক গুরুত্বের জন্য পরিচিত। কোহিমা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের স্থান ছিল,
যেখানে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং জাপানি বাহিনীর মধ্যে কোহিমা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। নাগাল্যান্ডের সরকারি ভাষা হলো ইংরেজি,
যা প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে নাগাল্যান্ডে বিভিন্ন উপজাতির নিজস্ব ভাষা রয়েছে,
যেমন আও,
সেমা, আঙ্গামি, এবং লোথা। এখানকার অধিকাংশ উপজাতির নিজস্ব ভাষা থাকলেও ইংরেজি ও নগামিজ ভাষা সাধারণত যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।
নাগাল্যান্ডের জনগণ মূলত উপজাতিভিত্তিক,
এবং তাদের সংস্কৃতি ও জীবনধারা উপজাতীয় ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। নাগাল্যান্ডের প্রায় ১৬টি প্রধান উপজাতি রয়েছে,
এবং প্রতিটি উপজাতির নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক,
উৎসব, এবং আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে। নাগাল্যান্ডের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিনির্ভর। এখানকার কৃষির মূল ভিত্তি হলো ঝুম চাষ বা স্থানান্তরিত চাষাবাদ পদ্ধতি,
যা উপজাতীয় কৃষকদের মধ্যে প্রচলিত। ধান,
ভুট্টা, এবং শাকসবজি এখানে প্রধান ফসল। এছাড়াও,
হস্তশিল্প এবং বেত ও বাঁশ শিল্প নাগাল্যান্ডের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে।
নাগাল্যান্ড ব্রিটিশ ভারতের সময় আসামের অংশ ছিল। ভারতের স্বাধীনতার পর,
১৯৬৩ সালে নাগাল্যান্ড একটি স্বতন্ত্র রাজ্যে পরিণত হয়। নাগাল্যান্ডের জনগণ,
বিশেষত কিছু উপজাতি,
স্বাধীনতার পরে একটি আলাদা নাগা জাতির জন্য লড়াই করেছিল। অনেক বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা চললেও বর্তমানে নাগাল্যান্ডে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।
৭. ত্রিপুরা প্রদেশ:
ত্রিপুরা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি ছোট কিন্তু সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ রাজ্য। এটি ঐতিহ্যবাহী রাজবংশ,
বিভিন্ন উপজাতি,
এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত। ত্রিপুরা ভারতের তৃতীয় প্রাচীনতম রাজ্য হিসেবে পরিচিত এবং এটি দীর্ঘকাল ধরে একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল,
যা ১৯৪৯ সালে ভারতের সাথে যুক্ত হয়।
ত্রিপুরার রাজধানী হলো আগরতলা,
যা রাজ্যের রাজনৈতিক,
অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আগরতলার রাজবাড়ি এবং উদ্যানসমূহ পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ত্রিপুরার প্রধান ভাষা হলো বাংলা এবং কোকবরক। বাংলা ভাষায় ত্রিপুরার একটি বড় অংশ কথা বলে,
তবে কোকবরক ত্রিপুরার উপজাতি জনগোষ্ঠীর অন্যতম ভাষা। ইংরেজি ও হিন্দিও প্রচলিত রয়েছে।
ত্রিপুরার সংস্কৃতি বৈচিত্র্যময় এবং এটি মূলত বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত। ত্রিপুরায় মূলত দুটি প্রধান জনগোষ্ঠী রয়েছে: বঙ্গভাষী বাঙালি এবং উপজাতীয় জনগোষ্ঠী,
যেমন ত্রিপুরি,
রিয়াং, জমাতিয়া, এবং অন্যান্য। ত্রিপুরার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। ধান,
গম, এবং তেল বীজের চাষ এখানে প্রধান অর্থনৈতিক কার্যক্রম। ত্রিপুরা ভারতের অন্যতম বৃহত্তম রাবার উৎপাদক রাজ্য হিসেবে পরিচিত। এছাড়া,
বেত, বাঁশ, এবং হস্তশিল্প ত্রিপুরার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ত্রিপুরার রাজ্যের ইতিহাস প্রায় ২০০০ বছরের পুরনো। ত্রিপুরা আগে একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল এবং এখানে মানিক্য রাজবংশ দীর্ঘকাল শাসন করেছিল। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর ত্রিপুরা ভারতের অংশ হয় এবং ১৯৪৯ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের সাথে যুক্ত হয়।
কোন মন্তব্য নেই